Ultrasonography in Pregnancy

গর্ভাবস্থায় চেকআপ ও কী কী টেস্ট করা প্রয়োজন

যখন আপনি নিশ্চিতভাবেই জানতে পেরেছেন যে আপনি মা হতে চলেছেন,গর্ভস্থ শিশু এবং আপনার নিজের সুস্বাস্থ্য রক্ষার্থে আপনাকে নিয়মিত ডাক্তারের পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। এই সময়ে বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। প্রসবপূর্ব চেক আপ এর মাধ্যমে চিকিৎসক আপনার মনে আসা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারেন।

কী কী পরীক্ষা করতে হবে?

গর্ভাবস্থায় আপনার নিম্নোক্ত রক্তপরীক্ষাসমূহ করা প্রয়োজন –

১) ব্লাড গ্রুপিং এবং Rh টাইপিং

২)রক্তে কতটুকু হিমোগ্লোবিন আছে তার পরীক্ষা

৩)রক্তে HIV. এর জীবানু আছে কিনা তার পরীক্ষা

৪)ব্লাড গ্লুকোজ লেভেল

৫)Hepatitis B এর জীবাণু নির্ণয়ের পরীক্ষা

৬)সিফিলিসের জীবাণু নির্ণয়কারী পরীক্ষা

আল্ট্রাসনোগ্রাফি

বেশিরভাগ গর্ভবতী মায়েদের সাধারণত দুটো আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে উপদেশ দেয়া হয়,তবে রোগী যদি উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন হয়ে থাকেন,তাহলে এই সংখ্যা বাড়তে পারে।গর্ভাবস্থার শেষের দিকে বাচ্চা এবং প্লাসেন্টার অবস্থান দেখার জন্যেও আরেকটা আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়ে থাকে। সাধারণত আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় –

  • ৭-৯ সপ্তাহে : বেশিরভাগ চিকিৎসকই সাধারণ রুটিন চেক আপের অংশ হিসেবে এই সময়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।আবার অনেকেই গর্ভপাতের ঝুঁকি, একাধিক শিশু আছে কিনা,তারিখ নিয়ে সংশয় কিংবা একটোপিক বা মোলার প্রেগন্যান্সী নির্ণয়ের জন্য এই সময়ে প্রথম আল্ট্রাসনোগ্রাফির পরামর্শ দেন।
  • ১০-১৪ সপ্তাহে : এই সময়ে গর্ভস্থ বাচ্চার কোন জন্মগত হার্টের সমস্যা,অথবা জীনগত কোন সমস্যা আছে কিনা দেখার জন্যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।
  • ১৮-২০ সপ্তাহে : বাচ্চা জন্মদানের সম্ভাব্য তারিখ,বাচ্চার হার্টবিট,বাচ্চার অবস্থান নিশ্চিত করা,এমনিওটিক তরলের পরিমাণ কিংবা বাচ্চার কোন সমস্যা আছে কিনা দেখার জন্যে এই সময়ে আরেকটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার পরামর্শ দেয়া হয়।

স্ক্রিনিং টেস্ট

১১-১৪ সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চার কোন ক্রোমোসোমাল সমস্যা যেমন ডাউন সিনড্রোম কিংবা ট্রাইসোমি ১৮ আছে কিনা দেখার জন্যে স্ক্রিনিং টেস্ট করা হয়।

অন্যান্য:
এছাড়াও গর্ভাবস্থায় প্রি এক্লাম্পশিয়া,মূত্রনালীর ইনফেকশান কিংবা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য নিয়মিত মায়ের প্রস্রাব পরীক্ষা করানো হয়।

প্রত্যেক চেক আপে মায়ের রক্তচাপও দেখা হয়, এতে করে প্রিএক্লাম্পশিয়া নির্ণয় সহজ হয়।

*যদি স্ক্রিনিং টেস্টে বাচ্চার কোন ক্রোমোসোমাল সমস্যা আছে মনে হয়,তাহলে তা নিশ্চিত করার জন্যে কিছু পরীক্ষা করা হয়, যেমন : Chorionic villous sampling, Amniocentesis প্রভৃতি।

Dr Punam Palit MBBS BCS (Health)

Add comment