২০২৪-এর স্বাস্থ্য ভাবনা

কী হবে আগামি বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে?
তাহলে কি মানুষের জনমিতিতে আসছে এক পরিবর্তন?
আরও বৃদ্ধের সংখ্যা বাড়া।
প্রবীণদের স্বাস্থ্য পাবে স্বাস্থ্য সেবায় স্বাস্থ্য চিন্তায় অগ্রাধিকার।
আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর ডিজিটাল হেলথের ভুবনে আরও বেশি প্রবেশ করব।
তাহলে কি মানুষের কর্মাধিকার আর প্রভুত্ব খর্ব হবে বা এসব যন্ত্র কি হবে মূল পরিচালনার অংশিজন?
মানুষকে নির্ভর করতে হবে এদের উপর?
আসবে না তো যন্ত্র দানব এভাবে যাদের সৃষ্টি তাদের উপর চড়াও হবে না তো?
ভয় নাই মানুষের জয় হবে। শুভ চিন্তক মানুষের ক্ষয় এখনও হয়নি, এসব উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে মানব কল্যাণে। এদের প্রয়োগ ঘটবে স্বাস্থ্য সেবার সবক্ষেত্রে এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলে দরিদ্র মানুষের কাছে এর সেবা পৌঁছুবে।
যত দূর সম্ভব ডিজিটাল হেলথ এইসব সুবিধা বঞ্চিত মানুষের দ্বারে পৌঁছুবে, সেবার হস্ত প্রসারিত হবে, ঘুচবে ধনী-দরিদ্রের বিভেদ, কালো সাদার বিভেদ, সংখ্যা গুরু সংখ্যা লঘুর বিভেদ অন্তত জীবনরক্ষার এসব চাহিদা মিটবে। “সবার জন্য স্বাস্থ্য” শ্লোগানে না থেকে অধিকারে পর্যবসিত হবে।
জলবায়ু যে আমাদের সবার স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলবে, ফেলছে সেই চিন্তা থেকে আমরা কি দূরে সরে গেছি?
না আরও জোরালো ভাবে আমরা একে নিয়ে সচেষ্ট হব কী করে একে করা যাবে মোকাবেলা এর জন্য ভেবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার সব দেশের শক্তি নিয়োগ করব?
যারা নিজেদের পরাশক্তি বলে বিবেচনা করেন তাদের দায়িত্ব যে বেশি সেই বোধ নিশ্চয় জাগ্রত হবে।
আবহাওয়ার দুর্যোগে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, যে সব নতুন রোগের সৃষ্টি হবে সেসব নিয়ে আমাদের অগ্রিম ভাবনা কি আছে?
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সেই সব রোগের বিস্তার ঘটবেঃ ম্যালেরিয়া ডেঙ্গি যে আরও বিপুল বিক্রমে আসবে সে জন্য আমরা প্রস্তুত? অভাবনীয় যে অগ্রগতি এমআরএন প্রযুক্তি, কোভিড ভেকসিন বা কোভিড টিকা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে সে প্রযুক্তি ক্যান্সার চিকিৎসায় হচ্ছে ব্যবহৃত এমন কি অন্য রোগের ক্ষেত্রেও এর রয়েছে অমিত সম্ভাবনা।
আমরা কি ভাবতে পারি বিজ্ঞানে যে সব অগ্রগতি হল তা কেবল ধনীদের ব্যবহারের জন্য নয় সব মানুষের কল্যাণে হবে ব্যবহৃত?
সেই অভিগম্যতা কি আনবে এক নবতর বিশ্বের উদ্বোধনী সঙ্গিত বাজিয়ে এক সমতা ভিত্তিক স্বাস্থ্য সেবা দাড়িয়ে থাকবে সবার জন্য কল্যাণের হাত এগিয়ে?
আমার দেশ মা দেয় অভয় বানী হৃদয়ে বাজে, আমরা জিতবই এই লড়াইতে, যে লড়াই সবার জন্য সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্য পেতে আর এভাবে হাসি ফুটবে সবার মুখে। পৃথিবী হবে বাসযোগ্য হিংসা-দ্বেষ মুছে যাবে নাকি এ বড় অসম্ভব কল্পনা?
আমাদের দেশের স্বাস্থ্য পরিকল্পনায় আগামি দিনের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি আর আয়োজনের কি বার্তা পাব নীতি নির্ধারকদের কাছ থেকে?

Prof Dr Subhagata Choudhury

Ex Principal Chittagong Medical College
Ex Dean Medicine, Chittagong University
Ex Director, Lab Service, BIRDEM

Add comment