এজমা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও সঠিক তথ্য

এজমা (asthma), অন্য নাম শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি। অন্যান্য রোগের মত এজমা নিয়েও সমাজে নানান ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। এখানে সেসব ভুল ধারণা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে সঠিক তথ্য তুলে ধরা হলো।

এজমা শুধু শিশুদের হয়

এজমা সাধারণত কম বয়সে ধরা পড়ে, যেকোন বয়সে এ রোগ হতে পারে।

এজমা ছোঁয়াচে, একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ে

এজমা ভাইরাস ও অন্যান্য রোগের মত সংক্রামক রোগ নয়। আপনার থেকে আপনার বন্ধুর হয়ে যাবে, কথা বলা স্পর্শ করলে ছড়াবে না। এক রুমমেট থেকে আরেকজনের হবে এমন না।

স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা থেকে এজমা হয়

স্ট্রেস এজমার কারণ নয়, স্ট্রেসের মধ্যে থাকলে এজমা বাড়তে পারে।

এজমা গুরুতর রোগ নয়

এজমা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ভালো। অবহেলা করলে, সঠিক চিকিৎসা না নিলে যেকোন সময় গুরুতর হতে পারে। জরুরি অবস্থায় যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে মৃত্যুও হতে পারে।

এজমা থাকলে ব্যায়াম করা যায় না

এজমা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ব্যায়াম করতে বাধা নেই। ব্যায়াম বরং এজমা রোগীদের জন্য উপকারী।

এজমার ওষুধ নিয়মিত নিলে আসক্তি জন্মে, আর ছাড়া যায় না

এজমা কতটা গুরুতর, এর ধরন ও পরিস্থিতি বুঝে ভিন্ন ভিন্ন ওষুধের প্রয়োজনে হতে পারে। ডাক্তার প্রয়োজনে ওষুধ কম বেশি করতে পারেন। কিন্তু নিয়মিত যেসব ওষুধ প্রয়োজন হয় এর কোনটি থেকে আসক্তি হতে পারে এমনটি সত্য নয়।

এজমা চিরস্থায়ী সমাধান আছে। আমার এক আত্মীয় অমুকের ওষুধ খেয়ে ভালো হয়ে গেছে।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মত এজমারও স্থায়ী কোন চিকিৎসা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। বাজারে প্রচলিত তাবিজ, কবিরাজ ও অন্যান্য চটকদার বিজ্ঞাপন ও আলোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।

এজমা থাকলে পশুপাখি পালন করা যায় না, বাগান করা যায় না

চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে পশুপাখি পালন, বাগান করা সবই করা যায়। অনেকে বাড়িতে হাঁস-মুরগী, গরু ছাগলের পরিচর্যা করেন। নিজের খেয়াল রেখে এসব করতে আপত্তি নেই।

এজমা থাকলে ক্রিকেট, ফুটবল ইত্যাদি খেলায় অংশগ্রহণ করা যায় না

এজমা নিয়ন্ত্রণে রাখলে সব করতে পারবেন। পেশাদার খেলোয়াড়দের অনেকেরই এজমা আছে। এজমা তাদের ক্যারিয়ারে কোন বাধা হয়নি। খেলাধুলার মধ্যে থাকলে বরং ভালো।

এজমা বিরল রোগ

এজমা অন্যান্য অনেক রোগের মত সাধারণ রোগ, খুব বিরল কিছু নয়। গুগল করে পরিসংখ্যান দেখে নিতে পারেন।

এজমা রোগীরা সাঁতার কাটতে পারে না, ডাক্তারের নিষেধ

এজমা নিয়ন্ত্রণে রেখে সাঁতার কাটতে কোন আপত্তি নেই। সাঁতার এজমার রোগীর জন্য ক্ষতিকর কিছু নয়।

শুধু ধোঁয়া ধূলিকণা থেকে এজমা হয়

একেক জনে একেক কারণে এজমা বাড়তে পারে। সবার ক্ষেত্রে একই বা সব ফ্যাক্টর দায়ী নয়।

এজমা থাকলে আয়ু কমে যায়, স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায় না

এজমার সঠিক চিকিৎসা নিলে, নিজের খেয়াল রাখলে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। এজমা স্বাভাবিক কাজেকর্মে কোন প্রতিবন্ধক নয়।

এজমার ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি, ক্ষতিকর

সব ওষুধের কম বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। অন্যান ওষুধের তুলনায় এজমার ওষুধ মোটামুটি নিরাপদ ও তেমন কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কিছু ওষুধের জন্য বিশেষ কিছু নির্দেশনা রয়েছে। আপনার ডাক্তার থেকে এ ব্যাপারে বিশদ জেনে নিবেন।

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এজমা ধরা যায়

ডাক্তার আপনার রোগ বৃত্তান্ত, শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে এজমা নির্ণয় করবেন। প্রয়োজনে আছে লাং ফাংশন টেস্ট। ফুসফুসের পরীক্ষা। রক্তের স্যাম্পল থেকে এজমা ধরা যায় না।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হলে এজমা হয়

ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হলে ফুসফুসের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে এটি এজমার কারণ নয়।

এসিতে থাকলে এজমা হয়

এজমার উপসর্গ থাকলে এসির বাতাসে এজমা বাড়তে পারে। এসি থেকে এজমা হয় প্রাথমিকভাবে এটি সত্য নয়।

এজমা রোগীদের ইনহেলার নেয়া উচিত নয়

এজমার আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির একটি ইনহেলার। এর মাধ্যমে ওষুধ সরাসরি রোগ যে জায়গায় সেখানে কাজ করে। ইনহেলারের মাধ্যমে ওষুধ নিলে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেকাংশে এড়ানো যায়। ইনহেলার নেয়ার কিছু কৌশল ও নির্দেশনা আছে। ডাক্তার বিস্তারিত বলবেন।

তথ্যসূত্র

WHO: https://www.who.int/news-room/fact-sheets/detail/asthma

Dr Omar Faruq MBBS BCS (Health)

Add comment