reading position

বইপড়ার সঠিক পজিশন কোনটি?

বইপড়া নিয়ে যত কথা হয় ‘পড়ার সময় বই ও শরীরের পজিশন’ নিয়ে আসলে কথাই হয় না। আমাদের প্রায় সবারই ধারণা পড়লেই হলো। আসলেই কি তাই? যারা টানা বই পড়েন, গবেষণা বা অফিসের কাজে বড় কোন ডকুমেন্ট পড়তে হয় তারা এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবেন। মেরুদণ্ড যদি স্বাভাবিক পজিশন থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কোন একদিকে ঝুঁকে থাকে তাহলে ঘাড়ে ও কোমরে ক্রনিক পেইন হতে পারে। বই পড়ার, কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহারের সময় শরীরের সঠিক পজিশন (দেহভঙ্গি বা posture) শুধু ব্যথা থেকে মুক্তি দিবে তা নয়, দীর্ঘ সময় কোয়ালিটি রিডিং-এর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

১. চেয়ার-টেবিল যেন সঠিক হয়

এ লেখার জন্য গুগল করে দেখলাম চেয়ারের কোন অংশকে কী বলে। শব্দ থেকে অর্থ বোঝা যায় বলে আর বর্ণনা দিলাম না।

আপনার শরীরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চতার টেবিল এবং চেয়ার হলে বসে আরাম পাবেন। পড়ায়ও মন বসবে। একেবারে স্ট্রেইট সাপোর্টের চেয়ে আপনার স্পাইনের কার্ভেচারের সাথে মিলে এমন ব্যাকরেস্ট ও হেডরেস্ট আছে চেয়ার ভালো। এক্ষেত্রে নিজে ট্রায়াল না দিলে ভুল হতে পারে। চেয়ার খুব উঁচু বা নিচু হলে চেয়ার উচ্চতা এডজাস্ট করে নেয়া ভালো।

২. শরীরের সঠিক পজিশন বা দেহভঙ্গি (posture)

সঠিক পজিশনে পড়াশোনা করে আমরা অভ্যস্ত নই তাই রপ্ত করতে একটু সময় লাগবে। একবার রপ্ত হয়ে গেলে এর সুফল পাওয়া যাবে আজীবন। আর ছোটরাও আমাদের দেখাদেখি শিখে নিবে।

 

আমাদের স্পাইন একেবারে সোজা নয়, কিছুটা বাঁকা। বসার সময় এ বিষয়টা লক্ষ্য রাখা উচিত।

  • ঘাড় সামনের দিকে ঝুকে বইপড়া আমাদের স্বভাবজাত হলেও এটি সঠিক নয়। ঘাড় থাকবে মোটামুটি সোজা, আরামদায়ক পজিশনে।
  • পিঠের দিকটা চেয়ারের ব্যাকের সাথে সাপোর্ট দেয়া।
  • কোমরের অংশ হেলতে হেলতে সামনে চলে যায় অনেকের। এও ঠিক নয়। কোমর, বাটক যথাসম্ভব চেয়ারের ব্যাকের কাছে থাকবে।
  • টানা বসে বই পড়ার চেয়ে প্রতি ২০-২৫ মিনিট পর ৫ মিনিটের বিরতি দিন। এ সময় হালকা ব্যায়াম করে নিন। দেখবেন শরীর নতুন উদ্যম ফিরে পাবে, পড়ার কোয়ালিটিও যাবে বেড়ে।

৩. বইয়ের পজিশন

ভাবুন, কাউকে ফেইস টু ফেইস না দেখে পায়ের দিক থেকে দেখছেন। ব্রেইনকে এরকম ইমেজ প্রসেস করতে বাড়তি সময় দিতে হবে। আমরা প্রাকৃতিক ভাবে কোন কিছু সামনাসামনি দেখে ভালো বুঝি। বইয়ের অক্ষরগুলোও তাই। কোণাকুণি পড়তে গেলে ব্রেইনে অক্ষরের যে সংকেত যায় তা কিছুটা অস্বাভাবিক। ব্রেইনের ওপর বাড়তি চাপ এবং চোখের স্ট্রেইন দুইই হয়। এজন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো

  • বই হাতে বা কোন কিছুতে সাপোর্ট দিয়ে আই লেভেলের সামান্য নিচে ধরা। ঢাউস সাইজের বই অবশ্য এভাবে পড়া যাবে না।
  • বই ও চোখের দূরত্ব এডজাস্ট করে নিবেন।

তথ্যসূত্র: Wikihow

Dr Omar Faruq MBBS BCS (Health)

Add comment