ছেলেদের স্কিন কেয়ার

স্কিন মানবদেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ। তাই স্কিন কেয়ার করাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ব্যাপারটা যখন “ছেলেদের স্কিন কেয়ার” তখন অনেকেই ভ্রু কুঁচকে থাকেন। আধুনিক কালে এসে স্কিন কেয়ার তাই আর শুধু নারীদের ব্যাপারে সীমাবদ্ধ নয়, থাকা উচিত ও না। নারীদের স্কিন কেয়ার নিয়ে অনলাইনে অনেক তৎপরতা চোখে পড়লেও পুরুষের ব্যাপারে ততটাই নিরব। আসুন আজকে আমরা ছেলেদের স্কিন কেয়ার নিয়ে একটু জানব। ছেলে এবং মেয়ের স্কিন কেয়ার আলাদা নেই। তবে ছেলে এবং মেয়ের শরীরে হরমোনাল ধরন আলাদা তাই ছেলেদের স্কিন একটু ভিন্ন রকম।

  • পুরুষদের শরীরের প্রধান হরমোন হল টেস্টোস্টেরন। তাই ছেলেদের ত্বকে ঘামগ্রন্থি গুলোকে থেকে সিবাম বা ঘামজাতীয় পদার্থ বেশি নিঃসৃত হয় । যেহেতু ঠিক মতন ফেইসওয়াশ বা বডিওয়াশ ব্যবহার করা হয় না তাই লোমকূপে ময়লা জমে ব্রণ হয়। পরে সেটা দাগ হয়ে যায়। যে দাগ সহজে যায় না।

ACNE IN MENআরেকটা সমস্যা ছেলেদের যেহেতু মুখে দাড়ি থাকে তাই ঘাম জমে দাড়ি চুলকায়।খুশকি দেখা দেয়।অনেক সময় ব্রণ ও হয়।যেহেতু দাড়ির ঠিকমতন যত্ন নেয়া হয়না

  • মাথায় খুশকি হওয়া, ফুসকুড়ির মতন হওয়া, চুলকানো সমস্যা ও দেখা দেয়। এমনকি এসবের জন্য চুলপড়ার সমস্যাও দেখা যায়। যদিও চুলপড়ার অনেক কারণ যেমন হরমোনাল, পুষ্টিজনিত কারণ ইত্যাদি। সেটা বিরাট একটা আলোনার দাবী রাখে।

অনেকে অনেক দামী সুগন্ধি ব্যবহার করলেও একটা ভালো সানস্ক্রিন ব্যবহারে তীব্র অনীহা। অথচ সানস্ক্রিন স্কিনকে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। না হলে ত্বকে ছোপ ছোপ দাগ পড়া বা সানট্যান হয়। ত্বক সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।চোখের নিচে কালো দাগ বেড়ে যায়। যদিও এটার আরো অনেক কারণ আছে যেমন ক্রমাগত মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিনের রেডিয়েশন কালো দাগ বাড়িয়ে দেয়।

সমাধান

  • এত কিছু শুনে ভড়কে যাওয়ার কিছু নাই। আসলে বেসিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সবার মেনে চলা উচিত। তবে মনে রাখতে হবে ত্বকের ধরন বুঝে সব ব্যাবহার করতে হবে।
  • যাদের ত্বক শুষ্ক তারা লো পিএইচ ফেইসওয়াশ, তৈলাক্ত ত্বকে যেহেতু ব্রণহয় বেশি তাই স্যালিসাইলিক এসিড বা বেনজাইল পারঅক্সাইড বেইজড ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। দিনে ২ বার ব্যবহার করা উচিত।
  • যাদের দাঁড়িতে বা মাথায় খুশকি হয় তাদেরকে স্যালিসাইলিক এসিড, টি ট্রি বেইজড শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। সপ্তাহে অন্তত ২ বার। তাহলে খুশকি সমস্যা কম হবে। তাছাড়া অনেক মেডিকেটেড শ্যাম্পুও পাওয়া যায়। একজন স্কিন স্পেশালিস্ট আরে ভালোভাবে সাহায্য করতে পারবেন।
  • অবশ্যই অবশ্যই একটা ভালো সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। আমাদের দেশের জন্য SPF 30+++ বা তার বেশি ব্যবহার করা উচিত।

ত্বককে সুন্দর প্রাণবন্ত লাগার জন্য ত্বকের ময়েশ্চারাইজেশনের ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। একটা ভালো ময়েশ্চারাইজার নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত। শুষ্ক ত্বকে ক্রিম বেইজড আর তৈলাক্ত ত্বকে জেল বেইজড ময়েশ্চারাইজার এ সুফল পাওয়া যাবে।

লাস্ট বাট নট দ্যা লিস্ট প্রচুর পানি পান করতে হবে। গরমে এই বিষয়ে আরো সচেতন হতে হবে সবাইকে।

Dr Marjana Akter MBBS

FCPS Part 2 Trainee, Department of Obstetrics and Gynecology
Chittagong Medical College Hospital

Add comment